জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মহাসমারোহে বাংলা বর্ষবরণ

প্রকাশিত: ১৫-০৪-২০১৮, সময়: ০৬:৩৬ |
Share This

মঙ্গল শোভাযাত্রা ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহাসমারেহে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয় বাংলা নববর্ষ ১৪২৫।

পয়লা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সকাল ৯টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আর নেতৃত্ব দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।

এবার মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘জাতীয় ফল কাঁঠাল’ শোভাযাত্রায় পাশাপাশি ছিল কাঠবিড়ালি, শেয়াল, তাল, কামরাঙ্গাসহ দেশীয় বিভিন্ন ফল-ফলাদির প্রতিকৃতি, পুতুল, পাখি, পেঁচা ও রাজা-রানির মুখোশ, ঘোড়া, সিকা, সরা, অন্যান্য লোকজ ঐতিহ্য, অলংকৃত পাত্র ইত্যাদি। শোভাযাত্রায় গ্রাম বাংলার নৈসর্গিক দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়।

শোভাযাত্রাটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে থেকে রায়সাহেব বাজার, তাঁতিবাজার মোড় হয়ে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিরে আসে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মো. সেলিম ভূঁইয়া, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, ছাত্রনেতৃবৃন্দ, কর্মচারীসহ পুরান ঢাকার স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি ও বেশ কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে।

মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে সকাল ১০টায় সামাজিক বিজ্ঞান ভবন মাঠে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘বাংলা বর্ষবরণ একটি সার্বজনীন উৎসব, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করে। ৯০-এর দশক থেকে বাংলা নববর্ষ উদযাপন নতুন মাত্রায় রূপ নেয় এবং মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জাতির বার্তা পৌছে দেওয়া শুরু হয়।’

ড. মীজানুর রহমান বলেন, এবার আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল বার্তা ‘সুষম বণ্টন ও টেকসই উন্নয়ন’ নির্ধারণ করেছি। এর প্রতীকী হিসেবে শোভাযাত্রার মূল থিম কাঁঠাল রাখা হয়েছে। কারণ কাঁঠাল একমাত্র ফল যা অন্যকে ভাগ না দিয়ে খাওয়া যায় না। লুকিয়ে একা একা খাওয়ারও সুযোগ নেই, কাঁঠালের সুমিষ্ট গন্ধ জানান দেবে কোথায় কাঁঠাল খাওয়া হচ্ছে। কাঁঠালের অবশিষ্টাংশ ছেড়ে দিতে হবে পশু পাখিকে খাওয়ার জন্য।’ তিনি বলেন, ‘জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে শোভাযাত্রায় কাঁঠালের পেছনে সঙ্গী ছিল কাঠবিড়ালি ও শিয়াল। সব কিছুতে যার যার ন্যায্য হিস্যা বণ্টনের মাধ্যমে নিশ্চিত হোক টেকসই উন্নয়ন।’

এরপর, সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এর মধ্যে নৃত্য, দলীয় সংগীত, নজরুল গীতি, লোক সংগীত উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে কমলা রানির সাগর দীঘির পালাগান অবলম্বনে কিচ্ছাপালা পরিবেশিত হয়।

Comments

comments

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

লেখা পাঠান

আপনিও লিখতে পারেন। হতে পারেন আপনার জেলা কিংবা উপজেলার প্রতিনিধি।

সিভি পাঠান


news@digitalbangla24.com

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে