রুয়েট উপ-উপাচার্যের পদ শূন্য, জটিলতা

প্রকাশিত: ০৬-০৫-২০১৮, সময়: ১১:২৪ |
Share This
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপ-উপার্যের পদটি দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায়ও বিঘ্ন ঘটছে। রুয়েট প্রশাসনের সব ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করে রাখতে উপাচার্য গুরুত্বপূর্ণ পদটি পূরণের উদ্যোগ নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর রুয়েটের প্রথম উপ-উপাচার্য হিসেবে ২০১০ সালের ১২ অক্টোবর ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মর্ত্তুজা আলীকে নিয়োগ দেন। এর ফলে রুয়েট প্রশাসিক কাজে গতিশীলতা ফিরে আসে। সকল ধরনের একাডেমিক কর্মকাণ্ডও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হতে থাকে। তিনি কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৪ সালের ১১ অক্টোবর অধ্যাপক ড. মো. মর্ত্তুজা আলী উপ-উপাচার্য হিসেবে তাঁর মেয়াদকাল শেষ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধ্যাপক ড. মো. মর্ত্তুজা আলী উপ-উপাচার্যের মেয়াদকাল শেষ হওয়ার আগেই নতুন উপ-উপাচার্য নিয়োগের ব্যাপারে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি প্রেরণের জন্য উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগ রুয়েটে নতুন উপ-উপাচার্য নিয়োগের ব্যাপারে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেননি।
সূত্র মতে, ঠিক একই সময়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপ-উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হলে কুয়েট প্রশাসন নতুন উপ-উপাচার্য নিয়োগের অনুরোধ জানিয়ে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। এর কিছুদিন পরই কুয়েটে নতুন উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগ সক ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি। ফলে রুয়েট উপ-উপাচার্যের পদ দীর্ঘ ৩ বছর সাত মাস ধরে শূন্য থাকলেও নতুন কাউকে নিয়োগ দেননি রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর।
সূত্র জানায়, উপ-উপাচার্যের পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় রুয়েটে প্রতিনিয়ত নানা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটছে। উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগ একক ইচ্ছামত প্রশাসন ও একাডেমিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। রুয়েটের সমস্ত একাডেমিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উপাচার্য এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করায় এখানে একনায়কতান্ত্রিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র আরও জানায়, রুয়েটে দীর্ঘ সময় ধরে উপ-উপাচার্যের পদ শূন্য থাকায় উপাচার্য প্রফেসর মোহা. রফিকুল আলম বেগ গত চার বছরে রুয়েটে অবাধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পদে সরকার বিরোধীদের (বিএনপি জামাতপন্থি) নিয়োগ দিয়ে এবং ছাত্রলীগে গ্রুপিং সৃষ্টি করে নিজস্বার্থে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ঘটলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখায়নি বলে জানা গেছে।
রুয়েটে উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেতে আগ্রহী এমন বেশ কয়েকজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাঁরা সরকারের বিভিন্ন মহলের সাথে যোগাযোগ করে রুয়েটে উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেতে জোর লবিং ও চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগ রুয়েটে নতুন উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ না জানানোর ফলে এ পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রুয়েটে উপ-উপাচার্য নিয়োগের প্রলোভন দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগ বেশ কয়েকজন শিক্ষককে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করছেন। প্রভাবশালী শিক্ষকদের নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি পদটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যাচ্ছেন। সাধারণ শিক্ষকরা রুয়েটে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং সকল প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি রুখতে অবিলম্বে উপ-উপাচার্য নিয়োগের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগ বলেন, রুয়েট অপেক্ষাকৃত ছোট বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপ-উপাচার্য নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার। এ বিষয়ে তাঁর কোনো হস্তক্ষেপ কিংবা কোনো করণীয়ও নেই।

Comments

comments

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

লেখা পাঠান

আপনিও লিখতে পারেন। হতে পারেন আপনার জেলা কিংবা উপজেলার প্রতিনিধি।

সিভি পাঠান


news@digitalbangla24.com

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে