গাজীপুরে আ.লীগের ব্যাচ পরে বিএনপির ‘নাশকতার’ পরিকল্পনা

প্রকাশিত: ২৬-০৬-২০১৮, সময়: ১০:১২ |
Share This

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের ব্যাচ পড়ে নাশকতা করতে বিএনপি পরিকল্পনা করেছিল বলে দেখা গেছে ফাঁস হওয়া এক টেলিফোন আলাপনে।

যে দুই জনের মধ্যে এই কথা বলাবলি হচ্ছিল, তাদের একজন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলে চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আর গতরাত তিনটার দিকে তাকে আটকও করা হয়।

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে বাইরে আওয়ামী লীগ এবং ভেতরে ভেতরে বিএনপি করে এমন লোকদেরকে চিহ্নিত করে গণ্ডগোল করতে ‘যন্ত্রপাতি’ দেয়ার কথাও বলেন বিএনপি নেতা মিজান। এর পাশাপাশি বাছাই করা লোকদেরকে টাকা পয়সার পাশাপাশি ‘প্রশিক্ষণ’ দেয়ার কথাও বলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা।

গোয়েন্দারা মিজানকে তার গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এ সংক্রান্ত দুটি অডিও ক্লিপ জব্দ করেন।

রাত সাড়ে তিনটার দিকে গুলশান ১ নম্বরের  ৮ নম্বর সড়কের ১০  নম্বর বাসা থেকে ধরে আনা হয় মিজানকে। এরপর সকালে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানান। কিন্তু এরপরই মিজানের কথিত পথোপকথনের দুটি অডিও ক্লিপ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। কন্সপেরেসি লিক নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলেও এই দুটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান জানান,  গাজীপুরে নির্বাচনকেন্দ্রিক নাশকতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মিজানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধ তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা হচ্ছে।

গোয়েন্দাদের তথ্যমতে মিজান যার সঙ্গে কথা বলছিলেন তার নাম সাইফুল ইসলাম। তিনি  আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের যুবদলের একজন নেতা।

মিজান-সাইফুল কথোপকথন

সাইফুল – স্লামালাইকুম।

মিজান: ওয়ালাইকুম সালাম। কেমন আছো?

– আছি মোটামুটি।

মিজান:  আচ্ছা,  তোমাদের এখান থেকে যে কাশিমপুর ইউনিয়নের যে ভোটকেন্দ্র, কতটুক দূর?

–  মানে আমাদের পাশেরডা  হইলো এক নম্বর ওয়ার্ড।

মিজান:  হ্যাঁ, এটা তোমাদের এখান থেকে কতটুকু দূর, ভোটকেন্দ্রটা?

–  এই ১৮ কিলো হইব। এক নম্বর ওয়ার্ডে কেন্দ্র হইল তিনটা।

মিজান:  আচ্ছা, ওখানে তোমাদের ক্লোজ বন্ধু-বান্ধব আছে?

–  হ্যাঁ।

মিজান:  আচ্ছা, এখানে আমাকে  একটা ছেলে পাড়লে দু্টই ছেলে দাও। যারা আওয়ামী লীগের ব্যাচ লাগিয়ে ঘুরতে পারবে। এরকম কিছু ছেলে ম্যানেজ করতে পারবা?

– হ্যাঁ, এরকম আছে।

মিজান:   আছে?  প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের  লোক নাও, যারা মনে মনে বিএনপি। আছে এমন?

–   জ্বি আছে।

মিজান:   তিনটা ছেলে সিলেক্ট করো। তিনটা ছেলে সিলেক্ট করো, হ্যাঁ? ওরা নৌকার ব্যানার নিয়ে ঘুরবে। ওদের আমি বলে দেবো। ওদের টাকা-পয়সা দিয়ে দেবনে। আমি ইলেকশনের দিন যন্ত্রপাতি দিয়ে দেবোনে। তুমি ছেলে তিনটা আগে সিলেক্ট করো। তিন সেন্টারের জন্য তিনজন। ওকে?

-ওকে?

মিজান:  ওকে। শোনও, শোনও শোনও শোনও। যে পোলিং সেন্টারটা, মানে যেকোনও তিনটা পোলিং সেন্টারের যেকোনও একটা সেন্টারের পাশে আমাদের লোকের বাড়ি থাকতে হবে। যে বাড়ির জানালার পাশে বসে… দোতলা কিংবা তিনতলা বাড়ি থাকলে ভালো হয়।

– আমি রেডি করবোনে ।

মিজান:  হ হ রেডি করো, আর তিনটা ছেলেকে রাখবা, অন্য কাজে। ওই তিনটা ছেলে আওয়ামী লীগের ব্যাচ লাগিয়ে ঘুরবে।

– আচ্ছা, ঠিক আছে।

মিজান:   আচ্ছা, ঠিক আছে।

পরের ওডিও রেকর্ডের কথোপকথন ছিল এমন

–  স্লামালাইকুম।

মিজান: ওয়ালাইকুম সালাম। আচ্ছা, তোমার খবরের বার্তা কী? কদ্দুর কী করতে পারতেছো?

– ওই লোক ঠিক করছি। বাসাডা ঠিক করতে পারি নাই এখনও।

মিজান: একটা বাসা ঠিক করো। ২/৪/৫ হাজার যদি দিতেও হয়, দিয়ে দাও।

– মানে একটা বাসা ঠিক করে দেবো?

মিজান: মানে সেন্টারের পাশে। কথাটা বুঝছো?

–   হ্যাঁ।

মিজান: এই লোকগুলিকে তোমাকে আনতে হবে…এই… তুমি রেডি থাকো।  কয়জন লোক দিবা? একজন নাকি দুইজন?

– চারজন দেওয়া যাবে, চার কেন্দ্রে চারজন। এক নম্বর ওয়ার্ডে  চার-পাঁচ জন দেওয়া যাবে।

মিজান: আচ্ছা, তোমার কথাটাই থাক। চার কেন্দ্রে চারজন। সাহসী ছেলে রেডি রাইখ। সাহসী যেন হয়। হাত- পা যেন না কাঁপে।

-এটা কোনও সমস্যা না।

মিজান: হ্যাঁ। এগুলারে একটা গাড়ি নিয়া ঢাকায় চলে আসবা। ওদের আমি শিখাইয়া, ট্রেনিং দিয়ে ছেড়ে দিব। বুঝতে পারছো?

–   হ্যাঁ।

মিজান: নাকি বুঝো নাই?

– না, বুঝছি।

মিজান: ওদের নিয়া ওইখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে আসবা। ওদের আলাদা টাকা দিয়ে দিব। কোনও সমস্যা নাই।

-হ্যাঁ।
মিজান: ওদের শিখাইয়া দিতে হবে। একবার শিখাইয়া ওদের একবার- দুইবার ট্রেনিং দিতে হবে। বুঝতে পারছো?

– আচ্ছা।

মিজান: তুমি চারটা লোক রেডি করো। খাবার দাবার খাও। আমি আমার জিনিসপত্র রেডি করি। তুমি নিয়া আসবা। আমি বলবনে কোথায় আসবা। গুলশানে, উত্তরায়, যে কোনও জায়গায়, বুঝ নাই?

–   হ্যাঁ ।

মিজান: তুমি ওদের নাম্বার-টাম্বার নিয়া রেডি করো। হাত খরচ দিয়া দিবনে। একবার-দুইবার ট্রেনিং দিয়া দিলে ঠিক হয়ে যাবে।

– ওকে।

মেজর মিজান: ওকে।

Comments

comments

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

লেখা পাঠান

আপনিও লিখতে পারেন। হতে পারেন আপনার জেলা কিংবা উপজেলার প্রতিনিধি।

সিভি পাঠান


news@digitalbangla24.com

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে