অক্টোবরেই আ.লীগ প্রার্থী চূড়ান্ত; মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এগিয়ে সাবেক ছাত্রনেতারা

প্রকাশিত: ০৭-০৭-২০১৮, সময়: ০৮:০২ |
Share This
একাদশ জাতীয় নির্বাচন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সাফল্যের সাথে নৌকার বিজয়ের মাধ্যমে টানা তিন বারের মত ক্ষমতায় এসে হেটট্রিক করতে চায় আওয়ামী লীগ। সে লক্ষ্যে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্য থেকে প্রার্থী বাছায়েও নেয়া হয়েছে সতর্কতা।
সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তদারকিতে চারটি সরকারী এবং আওয়ামী লীগের নিজস্ব জরিপ টিম মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংসদীয় ১৫০ টি আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে এমন খবর প্রকাশ হয়। তবে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন (২৩ জুলাই) গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের যোগ্যতা বিষয়ে বলেছেন, দুর্নীতিবাজরা নয় নিজ এলাকায় যার জনপ্রিয়তা আছে তাকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে। যেসব এমপি টাকা নিয়ে কাজ করেন, দূর্নীতি করেন, দলের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তারা নমিনেশন পাবেন না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণার পরে অনেক নতুন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী এবং বর্তমান এমপিদের মধ্যে অনেকেই বুঝে গেছেন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পাবেন না তারা।
আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংস্থার জরিপে মোটামুটি ১৫১টি আসন প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে এমন তথ্য বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি জরিপের মাধ্যমে জানা গেলেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর কিছু কিছু আসনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অথবা দেখা দিতে পারে নতুন মুখ। যাদের বিরুদ্ধে অতীতে কোন দুর্নীতি বা রাজনীতির কোন প্রপাগাণ্ডার অভিযোগ নেই।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য যাদের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চূড়ান্ত তালিকায় যারা রয়েছেন তাদের অনেককেই ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকে মনোনয়নের বিষয়টি জানিয়ে নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগ করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র খবরটি নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে আসনভিত্তিক একাধিক জরিপ করা হয়। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা, দলীয় বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে জরিপগুলো চালানো হয়েছে। সব জরিপের ফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে কিছু আসনের প্রার্থী প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেসব আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হতে পারে এখন ওই আসনগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য এ বিষয়ে বলেন, গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একান্ত আলাপে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই একাধিকবার প্রার্থী জরিপের কথা জানিয়েছেন। ২০০ আসনে প্রার্থী জরিপ চূড়ান্ত হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির গত বৈঠকের আগের বৈঠকে জানিয়েছিলেন সভাপতি নিজেই। এখন ওই ২০০ আসনের মধ্য থেকে ১৪০ থেকে ১৫১ জনের মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের এক সদস্য বলেন, বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে।
ইতোমধ্যে বেশকিছু আসনে প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমে আমরা ১৬০টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করব। দুই ধাপে এটি হবে। প্রথম ধাপে ১০০, পরের ধাপে ৬০ প্রার্থী। এর পর যেসব দলের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী জোট রয়েছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাকি আসনগুলোয় প্রার্থী ঠিক করা হবে। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, চূড়ান্ত প্রার্থীদের অনেককেই চুপচাপ জানানো হচ্ছে, এলাকায় গিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসনের ক্রমানুসারে প্রথম ধাপের আওয়ামী লীগের ১০০ এবং দ্বিতীয় ধাপের ৬০ জন সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন-নুরুল ইসলাম সুজন, পঞ্জগড়-২; রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও-১; মনোরঞ্জন শীল গোপাল, দিনাজপুর-১; খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর-২; ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর-৩; মোস্তাফিজুর রহমান, দিনাজপুর-৫; আসাদুজ্জামান নূর, নীলফামারী-২; মোতাহার হোসেন, লালমনিরহাট-১; নুরুজ্জামান আহমেদ, লালমনিরহাট-২; টিপু মুনশি, রংপুর-৪; মাহবুব আরা বেগম গিনি, গাইবান্ধা-২; ইউনুস আলী সরকার, গাইবান্ধা-৩; আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, জয়পুরহাট-২; আবদুল মান্নান, বগুড়া-১; হাবিবর রহমান, বগুড়া-৫; সাধন চন্দ্র মজুমদার, নওগাঁ-১; শহীদুজ্জামান সরকার, নওগাঁ-২; ইসরাফিল আলম, নওগাঁ-৬; ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-১; এনামুল হক, রাজশাহী-৪; আবদুল ওয়াদুদ, রাজশাহী-৫; শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী-৬; শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-২; জুনাইদ আহমেদ পলক, নাটোর-৩; মোহাম্মদ নাসিম, সিরাজগঞ্জ-১; হাবিবে মিল্লাত, সিরাজগঞ্জ-২; হাসিবুর রহমান স্বপন, সিরাজগঞ্জ-৬; মকবুল হোসেন, পাবনা-৩; গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, পাবনা-৫; ফরহাদ হোসেন, মেহেরপুর-১।
মাহবুব-উল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া-৩; আবদুর রউফ, কুষ্টিয়া-৪; আলী আজগর, চুয়াডাঙা-২; তাহজীব আলম সিদ্দিকী, ঝিনাইদাহ-২; আনোয়ারুল আজীম আনার, ঝিনাইদহ-৪; শেখ আফিল উদ্দীন, যশোর-১; মনিরুল ইসলাম, যশোর-২; কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৩; স্বপন ভট্টাচার্য্য, যশোর-৫; বীরেন শিকদার, মাগুরা-২; কবিরুল হক, নড়াইল-১; শেখ হেলাল উদ্দীন, বাগেরহাট-১; এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, বাগেরহাট-৪; এস এম মোস্তফা রশিদী, খুলনা-৪; নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, খুলনা-৫; মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা-২; আ ফ ম রুহুল হক, সাতক্ষীরা-৩; এস এম জগলুল হায়দার, সাতক্ষীরা-৪; ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, বরগুনা-১।
জোবায়দুল হক রাসেল, পটুয়াখালী-২; আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, পটুয়াখালী-৩; তোফায়েল আহমেদ, ভোলা-১; নুরুন্নবী চৌধুরী, ভোলা-৩; আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, ভোলা-৪; আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, বরিশাল-১; তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল-২; পংকজ দেবনাথ, বরিশাল-৪; আমির হোসেন আমু, ঝালকাঠি-২; আবদুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-১; হাসান ইমাম খান, টাঙ্গাইল-৪; ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৫; অনুপম শাহজাহান জয়, টাঙ্গাইল-৮; আবুল কালাম আজাদ, জামালপুর-১; মির্জা আজম, জামালপুর-৩; আতিউর রহমান আতিক, শেরপুর-১; মতিয়া চৌধুরী, শেরপুর-২; জুয়েল আরেং, ময়মনসিংহ-১; ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল, ময়মনসিংহ-১০; মারুফা আক্তার পপি-জামালপুর-০৪; ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, নেত্রকোনা-৫; সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-১; রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-৪; আফজাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৫; নাজমুল হাসান, কিশোরগঞ্জ-৬; এ এম নাঈমুর রহমান, মানিকগঞ্জ-১; মমতাজ বেগম, মানিকগঞ্জ-২; জাহিদ মালেক, মানিকগঞ্জ-৩; মৃণাল কান্তি দাস, মুন্সীগঞ্জ-৩।
শাহিন আহমেদ, ঢাকা-২; নসরুল হামিদ, ঢাকা-৩; সাবের হোসেন চৌধুরী, ইসমাইল চৌধুরি সম্রাট, ঢাকা-৮; শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-১০; এ কে এম রহমতউল্লাহ, ঢাকা-১১; আসাদুজ্জামান খান, ঢাকা-১২; জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা-১৩; সাবরিনা আক্তার তুহিন, ঢাকা-১৪; কামাল আহমেদ মজুমদার, ঢাকা-১৫; ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, ঢাকা-১৬; এনামুর রহমান, ঢাকা-১৯; আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক, গাজীপুর-১; জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর-২; বর্তমান এমপি রহমত আলীর ছেলে জামিল হাসান দুর্জয়, গাজীপুর-৩; সিমিন হোসেন রিমি, গাজীপুর-৪; মেহের আফরোজ চুমকি, গাজীপুর-৫; নজরুল ইসলাম, নরসিংদী-১; কামরুল আশরাফ খান, নরসিংদী-২; সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, নরসিংদী-৩; নুরুল মজিদ হুমায়ুন, নরসিংদী-৪।
গোলাম দস্তগীর গাজী, নরায়ণগঞ্জ-১; নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-২; এ এইচ এম মাসুদ দুলাল, নারায়ণগঞ্জ-০৩; শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪; কাজী কেরামত আলী, রাজবাড়ী-১; জিল্লুল হাকিম, রাজবাড়ী-২; আবদুর রহমান, ফরিদপুর-১; খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ফরিদপুর-৩; মুহাম্মদ ফারুক খান, গোপালগঞ্জ-১; শেখ ফজলুল করিম সেলিম, গোপালগঞ্জ-২; শেখ হাসিনা, গোপালগঞ্জ-৩; নুর ই আলম চৌধুরী লিটন, মাদারীপুর-১; শাজাহান খান, মাদারীপুর-২।
বিএম মোজাম্মেল হক, শরীয়তপুর-১; এনামুল হক শামীম, শরীয়তপুর-২; নাহিম রাজ্জাক, শরীয়তপুর-৩; এমএ মান্নান, সুনামগঞ্জ-৩; মুহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-৫; মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, সিলেট-৩; ইমরান আহমেদ, সিলেট-৪; নুরুল ইসলাম নাহিদ, সিলেট-৬; শাহাব উদ্দিন, মৌলভীবাজার-১; আবদুল মজিদ খান, হবিগঞ্জ-২; আবু জহির, হবিগঞ্জ-৩; মাহবুব আলী, হবিগঞ্জ-৪; র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩; আনিসুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪; এ বি তাজুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬।
সেলিমা আহমদ, কুমিল্লা-২; ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, কুমিল্লা-৩; রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, কুমিল্লা-৪; আবদুল মতিন খসরু, কুমিল্লা-৫; আ ক ম বাহাউদ্দীন, কুমিল্লা-৬; ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কুমিল্লা-৭; খালেদ মাহমুদ ভূইয়া, কুমিল্লা-৮; আ হ ম মুস্তফা কামাল, কুমিল্লা-১০; মুজিবুল হক, কুমিল্লা-১১; মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, চাঁদপুর-২; শামসুল হক ভূইয়া, চাঁদপুর-৪; মোরশেদ আলম, নোয়াখালী-২; মামুনুর রশীদ কিরণ, নোয়াখালী-৩; একরামুল করিম চৌধুরী, নোয়াখালী-৪; ওবায়দুল কাদের, নোয়াখালী-৫; ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম-১; মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম-৩; হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৭; আবদুল লতিফ, চট্টগ্রাম-১১; শামসুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২; সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৩; নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৪; আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার-২; সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার-৩; আবদুর রহমান বদি, কক্সবাজার-৪; বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, পার্বত্য বান্দরবান।

Comments

comments

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

লেখা পাঠান

আপনিও লিখতে পারেন। হতে পারেন আপনার জেলা কিংবা উপজেলার প্রতিনিধি।

সিভি পাঠান


news@digitalbangla24.com

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে