তরুণদের সমস্যা মানসিকতায়

প্রকাশিত: ০৮-০৮-২০১৮, সময়: ১২:৩৬ |
Share This

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্র সফরে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে বাংলাদেশ দলের মোট রানের ৭১ শতাংশ এসেছে তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাট থেকে। সফরের দুটি সেঞ্চুরিই এসেছে তামিম ইকবালের ব্যাট থেকে। ১০টি হাফ সেঞ্চুরির আটটিই করেছেন এই চার সিনিয়র ক্রিকেটার। কিন্তু দলের তরুণ ব্যাটসম্যানদের চিত্রটা বেশ করুণ। আট তরুণ মিলে গোটা সফরে তিন ফরম্যাটে মোট রান করেছেন মাত্র ৩৬৯!

লিটন দাস, এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মুমিনুল হক, আরিফুল হক ও নুরুল হাসান সোহান-এই আট তরুণের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র দুটি হাফ সেঞ্চুরি। এতেই প্রমাণ হয়ে যায়, পুরো সফরে বাংলাদেশ দলের রান তোলার কাজটা করেছেন ওই চার সিনিয়র ব্যাটসম্যান। জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো এই তরুণদের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলেছে তাদেরই কয়েকজন কোচের সঙ্গে।

সেই কোচের সবার অভিমত, এই তরুণদের অধিকাংশের সমস্যাটা মানসিকতায়। তাদের দক্ষতা ও টেকনিকে খুব বেশি সমস্যা নেই। তবে ব্যাটিং পরিকল্পনায় গলদ ছিল বলেও মনে করছেন তারা। আট তরুণের মধ্যে এই সফরে সবচেয়ে বেশি সুযোগ পেয়েছেন লিটন দাস। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫৮ রানও করেছেন তিনি। তবে শেষ টি২০-তে বিধ্বংসী ৬১ রানের ইনিংসটি ছাড়া উল্লেখ করার মতো ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি।

এর মধ্যে তিনটি ইনিংসে ভালো সূচনা করেও সেটা টেনে নিতে পারেননি লিটন। দুই টেস্টের দুই ইনিংসে ভালো সূচনার পরও দূরের বল খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন। বিকেএসপির সাবেক প্রধান ক্রিকেট কোচ ও বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার নাজমুল আবেদীন ফাহিম মনে করছেন, লিটনের টেকনিক ও দক্ষতায় কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে একজন ব্যাটসম্যানের যে ধরনের রানক্ষুধা থাকা দরকার, সেটা তার মাঝে অনুপস্থিত।

নাজমুল আবেদীন বলেন, ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার মতো যোগ্যতা ও দক্ষতা যে লিটনের আছে সেটা সে প্রমাণ করেছে। তবে অধিকাংশ সময় সে আউট হচ্ছে নিজের ভুলে। অন্য তরুণদের মতো সে উইকেটে অস্বাচ্ছন্দ্য ছিল না। বরং বেশ দাপট ও আস্থার সঙ্গে খেলেছে। আমার মনে হয় তার আরও বড় চিন্তা করা উচিত। সে অনুযায়ী পরিকল্পনাও করা উচতি। তাতে তার ও দল উভয়ের ভালো হবে।’

প্রস্তুতি ম্যাচে ৭০ রান করার পরও ওয়ানডে সিরিজে সুযোগ পাননি লিটন। তার বদলে খেলানো হয় এনামুল হক বিজয়কে। কিন্তু তিন ম্যাচে তিনি মাত্র ৩৩ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিজয়ের ব্যাটিং দেখে বেশ হতাশই হয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে তাকে কোচিং করানো মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ‘আমি তাকে তিন ইনিংসে তিনটি ভিন্ন পরিকল্পনায় ব্যাটিং করতে দেখেছি।

এক ম্যাচে সে সব বলে মেরেছে। পরের ম্যাচে সব বল আটকানোতে ব্যস্ত ছিল। আসলে একজন ব্যাটসম্যানের খেলায় এমন বিপরীতমুখী পরিকল্পনা দেখা যায় যখন সে সিঙ্গেল বের করতে পারে না। যদি টিম ম্যানেজমেন্ট বলেও দেয় তার পরও কোনো ব্যাটসম্যান সব বল মারতে পারে না, এটা সম্ভব নয়। আমার মনে হয়, বিজয়ের একটা পরিকল্পনায় স্থির হওয়া উচিত।’

তার মতো টানা ব্যর্থতা সত্ত্বেও সৌম্য সরকারকে টি২০ সিরিজের সব ম্যাচে খেলানো হয়। প্রথম ম্যাচে প্রথম বলে বোল্ড হয়েছেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান। পরের দুই ম্যাচে ক্যারিবীয়দের পেস ও বাউন্সে বিপর্যস্ত হয়ে স্লোয়ারে ক্যাচ দিয়ে এসেছেন। তিন ম্যাচে তিনি মোট ১৯ রান করেছেন। গত ১১ ম্যাচে তার ব্যাটিং গড় ৭.৯১।

ঘরের মাঠে শ্রীলংকা ‘এ’ দলের বিপক্ষেও ছয়টি ইনিংস খেলেও একটি হাফ সেঞ্চুরির দেখা পাননি। সৌম্যর টেকনিকে সমস্যা দেখছেন কোচ সালাউদ্দিন, ‘সৌম্যর টেকনিক নিয়ে আরও আগেই কাজ শুরু করা উচিত ছিল। অফস্পিনে সে ভীষণ দুর্বল। আর সব বলই সে মিড অন ও মিড উইকেট অঞ্চলের মধ্য দিয়ে মারে। রান না পাওয়ায় মানসিকভাবে সে গুটিয়ে গেছে। তার শক্তির জায়গা হলো আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। তার উচিত নিজের শক্তি অনুযায়ী খেলা।’

আরেক সম্ভাবনাময় তরুণ সাব্বিরের সমস্যাটা শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরের নানা কর্মকাণ্ডও তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন তার ছেলেবেলার কোচ খালেদ মাসুদ পাইলট। একই সঙ্গে মোসাদ্দেক হোসেনকে এত দ্রুত জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার সমালোচনাও করেছেন তিনি। খালেদ মাসুদ বিসিবির প্রতি একটি পরামর্শও দিয়েছেন। তরুণদের দেখভাল করার দায়িত্ব নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে বিসিবি দিলে ভালো হবে বলে মনে করছেন তিনি। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে ক্রিকেটারদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করার পক্ষেও তিনি।

Comments

comments

Leave a comment

উপরে