সেবার মান বাড়াতে হবে চিকিৎসকদের

প্রকাশিত: ০৯-১০-২০১৮, সময়: ০৫:৪৪ |
Share This

দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান করে দিচ্ছি। শুধু প্রতিষ্ঠান করলেই হবে না, চিকিৎসকদের মানুষের সেবার মান বাড়াতে হবে।’

গতকাল সোমবার বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণ জয়ন্তী) উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বরিশালবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি পদ্মা সেতু থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেল ব্যবস্থা নিশ্চিত করব। এ নিয়ে কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে চারটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা হাসপাতালগুলোকে উন্নতমানের করার জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবাটা নিশ্চিত করা সরকার হিসেবে এবং মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমি মনে করি। তাই স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো চালু করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ৫০ শয্যায় উন্নীত করেছি। ১০০ বেডের হাসপাতাল থেকে ২৫০ বেড করা হয়েছে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান করে দিচ্ছি। শুধু প্রতিষ্ঠান করলেই হবে না, চিকিৎসকদের মানুষের সেবার মান বাড়াতে হবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘সে জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, নার্সিং থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে আমাদের প্রশিক্ষণ প্রদান একান্তভাবে প্রয়োজন। তার জন্য আমরা যেমন ইনস্টিটিউশনগুলো করে দিয়েছি তেমনিভাবে চিকিৎসার সুযোগটাও আরো ব্যাপকভাবে সৃষ্টি করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে যেমন প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে তেমনি বিদেশি প্রশিক্ষক এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ওপরও আমরা জোর দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে চিকিৎসকও যেমন তৈরি হচ্ছে, সেভাবে মানুষ সেবাটাও পাচ্ছে। কিন্তু সেবার মানটাকে আরো উন্নত করতে হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামগুলোর দিকে আরো মনোযোগ দেওয়া দরকার, যাতে চিকিৎসাসেবাটা তারা যথাযথভাবে করতে পারে।’

তিনি বলেন, তাঁর সরকার প্রতিটি জেলায় একটি করে মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করতে চায়। পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মেডিক্যাল কলেজগুলো যুক্ত করে দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ লাভ করতে পারে। এ ছাড়া চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে, যাতে জেলার জনগণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা গ্রহণের সুযোগ পায়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে চিকিৎসক ভাই-বোনদের কাছে, মানুষের সেবা করাটা কিন্তু সর্বপ্রথম কর্তব্য। পদ আমরা সৃষ্টি করে দিয়েছি; কিন্তু এখানে আমরা ডাক্তার পাই না। নিয়োগও আমরা দিয়ে যাচ্ছি; কিন্তু কেন এই অবহেলা মানুষের প্রতি? এটা নিশ্চয়ই জনগণ প্রত্যাশা করে না। সেটা আমি আপনাদেরকে ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ করব।’

বরিশালের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এককালে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে অবেহেলিত ছিল। বাংলার ভেনিস বরিশাল হারিয়ে যেতে বসেছিল। আমরা প্রথমবার ক্ষমতায় এসে শিকারপুর, দোয়ারিকা, গাবখান সেতু নির্মাণ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে পদ্ম সেতু নির্মাণ হচ্ছে, কলাপাড়ায় পায়রা বন্দর, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছি। কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন যাতে যায় সেই ব্যবস্থা আমরা করি। দক্ষিণাঞ্চলে স্থাপিত হবে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র, এ জন্য কয়েটি স্থান দেখা হয়েছে। ভোলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস বরিশাল আসার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, তাঁর সরকার রাস্তাঘাট, পুল-ব্রিজ ব্যাপকভাবে করে দিচ্ছে, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি করে দিয়েছে, জলপথ, রেলপথ, সড়কপথ, আকাশপথ—সব পথেরই উন্নয়ন করে দিচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান ও কৃষি ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করা হচ্ছে। কৃষি প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বরিশালের বিলাঞ্চলের ধাপের ওপরে সবজি চাষের ব্যবস্থা উন্নত করে বরিশালকে আবারও শস্যভাণ্ডারে রূপ দিতে চাই।’

 

Comments

comments

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

লেখা পাঠান

আপনিও লিখতে পারেন। হতে পারেন আপনার জেলা কিংবা উপজেলার প্রতিনিধি।

সিভি পাঠান


news@digitalbangla24.com

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে