বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশের সেবা করে এগিয়ে আদম তমিজি হক

প্রকাশিত: ১৩-১০-২০১৮, সময়: ০৬:৩২ |
Share This

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রাজনীতিকে বিশ্বাস করে দেশের জন্য কাজ করতে চান অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী হক গ্রুপের কর্ণধার আদম তমিজি হক।

তিনি বলেন,আমি পারিবারিকভাবে দেশকে চিনেছি ও বুঝেছি বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমে। কারণ বাবার কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনেছি অনেক। তিনি বিশ্বাস করেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ তথা মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাংখিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। গ্লোবাল লাইভকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আলাপকালে তিনি তুলে ধরেন হক গ্রুপের ব্যবসায়িক সফলতার কথা। আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন দুর্যোগে হক গ্রুপের এগিয়ে আসার কথা।

আদম তমিজি হক জানান, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় বিস্কুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হক গ্রুপ। ১৯৪৭ সালে পরিবেশক হিসেবে যাত্রা শুরু হয় হক গ্রুপের। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বিস্কুটসহ একশটিরও বেশি পণ্য উৎপাদনে সুনামের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান। হক গ্রুপের উৎপাদিত পণ্য বর্তমানে বিশ্বের চব্বিশটি রাষ্ট্রে রফতানি হচ্ছে। এছাড়াও শুধু ব্যবসায়িক সমৃদ্ধিই নয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ব্যপক ভূমিকা রেখে চলেছে তমিজি হকের প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে পনের হাজার নিয়মিত কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে হক গ্রুপে।

একজন সফল ব্যবসায়ী আদম তমিজি হকের জন্ম ১৯৭৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর, রাজধানীর ইস্কাটন এলাকায়। তবে পারিবারিক কারণে ছেলেবেলায়ই পাড়ি জমাতে হয়েছে বিদেশে।কিন্তু তিনি অন্য অনেকের মত বিদেশে স্থায়ী আবাস গড়ে তুলতে পারেননি নিজের দেশকে ভালবেসে। দেশের মায়ায় ও দেশের অনেক অসহায় মানুষদের সেবার নেশায় ছুটে আসেন বাংলাদেশে। হাল ধরেন বাবার ব্যবসার। সাধারণ মানুষ ও দেশের সেবায় কাজ করাটা তমিজি হকের নেশার মতো। তাইতো তিনি বসে না থেকে বন্যা, শৈত্য প্রবাহের সময় অনাথ ও দুস্থদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান।

জানা যায়,দেশের রোহিঙ্গা সংকটে তিনি প্রতি সপ্তাহে ট্রাক ভর্তি ত্রাণ পাঠাচ্ছেন কুতুপালংয়ে। প্রচারবিমুখ আদম তমিজি হক প্রতি ঈদে ৫ হাজারের বেশি শিশুকে ঈদ বস্ত্র দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা করেন। শিক্ষানুরাগী আদম তমিজি নীরবে পৃষ্ঠপোষকতা করেন অসংখ্য স্কুল- কলেজ- এতিমখানার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিয়ে যাচ্ছেন কম্পিউটার সরঞ্জামাদি।দেশের বাইরেও তিনি তার দরাজ হস্ত প্রসারিত করেছেন। ফিলিস্তিনের অসহায় পনের জন ছাত্রকে তিনি সম্পূর্ণ নিজের ব্যক্তিগত অর্থায়নে পড়াশুনার খরচ বহন করেন।

বর্তমানে হক গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি জাতির জনকের আদর্শ লালন, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সব সময়ই অবদান রেখে চলেছেন তিনি। তার ধারনা রাজনৈতিক সচেতনতা দেশের মানুষের সেবা করার ক্ষেত্রে অধিক পরিপূর্ণতা দেয়। তাই রাজনীতির হাল ধরে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের এই নিবেদিত প্রাণ কর্মী।

জীবন বাজি রেখে মানুষের জন্য সারাটা জীবন তিনি কাজ করতে চান, কাজ করে চলছেন। তিনি বলেন, মাটি ও মানুষের জন্য আমার রাজনীতি। তিনি গরীব,দু:খি মানুষসহ সমাজের উন্নয়নে সর্বদা নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন। জানা যায় ,ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মানুষের প্রাণ এই তরুন আ’লীগ নেতা ও শিল্পপতি আদম তমিজি হক। তিনি তার কর্মদক্ষতা, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড এবং ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক কর্মকান্ডে ঢাকা উত্তরের প্রতিটি ওয়ার্ডে নানা শ্রেনী পেশার মানুষের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন।মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার এসব মহৎ কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আদম তমিজি হক জানান, কালো টাকা, পেশী শক্তি ও দুর্নীতিবাজদের পরাস্ত করাই আমার রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য। জননেত্রী শেখ হাসিনার আর্শিবাদ পেলে আমি আরও জনগনের সেবা করতে পারবো।

 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই বর্তমানে তরুণ নেতৃত্ব খুবই জরুরী। পুরাতন যারা রয়েছেন তারা কেউই খারাপ কাজ করছেন না। তবে তরুন প্রজন্মের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারবে তরুণ নেতৃত্বই। বর্তমান দেশ পরিচালনার জন্য এডভান্সড, এডুকেইটেড ও সফিস্টিকেটেড লোক প্রয়োজন।সবার জন্য বাসযোগ্য মানবিক, পরিবেশবান্ধব, যানজটমুক্ত রাজধানী গড়া, নারীদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলাবদ্ধতা দূর করা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, বাড়িভাড়া আইন বাস্তবায়ন, পাঠাগার, পার্ক-বিনোদন কেন্দ্রের ব্যবস্থা, বস্তিবাসীদের উন্নয়নে কাজ করা, পর্যাপ্ত নিরাপদ গণশৌচাগার, খাল-জলাশয় দখলদারদের উচ্ছেদ, ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা, পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলা,ছিন্নমূল মানুষের জন্য শেল্টার হোম, ডে-কেয়ার সেন্টার চালু, ই-সেবা চালু, ফরমালিন ও বিষমুক্ত খাবার নিশ্চিত, বর্জ্যসমূহ ট্রিটমেন্ট করে বিদ্যুৎ, সার ও জৈব গ্যাস উৎপাদন, ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বন্টন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ জনকল্যানমুখী কর্মকান্ডে নাগরিক সেবা নিশ্চিতে কাজ করতে সব সময় অঙ্গিকারবদ্ধ তিনি।নাগরিক সেবা যথাযথভাবে নিশ্চিতে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন এই তরুন আ’লীগ নেতা। অর্থাৎ মানবিক সমাজ গড়া-ই যার মূল লক্ষ্য।

সাধারণ অসহায় মানুষের পাশে থেকে সেবা করা ও উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন চিত্র।

তরুণ প্রজন্মের কাছে জানা যায় , একজন প্রেরনা দায়ক, অন্যায় অবিচার এর বিরুদ্ধে লড়াই, যাকে অনুসরন করে আমরা সত্যে সন্ধানে উন্মোচিত হব, যার আদর্শ আমাদের পথ-প্রদর্শক, যার স্বপ্ন দেখেন সুষ্ঠু সুন্দর একটি সমাজ-একটি দেশ গড়বো, যার অক্লান্ত পরিশ্রম শুধু মাত্র দেশ-মাতৃকার কল্যানের জন্য একজন আলোর দিশারী, ঢাকাবাসীর মাটি ও মানুষের গর্ব, তিনি হলেন আদম তমিজি হক। যার অনেক কাজ আমাদেরকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে অনুপ্রানিত করে।

তিনি বলেন, আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হক গ্রুপের শ্রমিক, কর্মচারী, পরিবেশক, সাপ্লাইয়ার সবাই মিলে এটি একটি পরিবার। এই পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে আমরা আমাদের গ্রাহকদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। হক পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের প্রতিটি স্থাপনা সঠিকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সন্নিবেশিত।

আমার বাবার কলকাতায় লেখাপড়া করার সুবাদে বঙ্গবন্ধুর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। বাবাই আমাকে বুঝিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। কারণ, তিনিই আমাদের দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।

আমার মনে সব সময় একটি বিষয় পীড়া দিত এই কারণেই, যে ব্যক্তিটি দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, যার মাধ্যমে একটি দেশ ও পতাকা পেয়েছি, সেই মহান ব্যক্তিকে কিভাবে এই দেশের কিছু ষড়যন্ত্রকারী হত্যা করেছে। শুধু হত্যা করেই নয়, তার নামটাও স্বাধীনতাবিরোধীরা মুছে দিতে চেয়েছিল। এগুলো আমি মানতে পারতাম না।তাই আমার লক্ষ্য ছিল পড়াশুনা শেষ করে দেশে গিয়ে বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন, সেই সোনার বাংলা বিনির্মাণে একটু হলেও অবদান রাখার চেষ্টা করবো।

তেমনি ব্যবসার পাশাপাশি আমি বিভিন্ন সামজিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করি। বর্তমান দেশের একটি অন্যতম সমস্যা রোহিঙ্গা সমস্যা। এই বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান দিয়েছি। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের জন্য ত্রাণ পাঠাচ্ছি।আমি টঙ্গী, গাজীপুরে বেশ কয়েকটি মসজিদের উন্নয়নসহ আঞ্জুমান হেদায়াতুল উম্মত এতিমখানা তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্ব নিয়েছি।প্রতিবছর শীতার্ত মানুষের জন্য কম্বল বিতরণ করছি। এছাড়াও কক্সবাজারের হিমছড়িতে তমিজুল হক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছি।

Comments

comments

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

লেখা পাঠান

আপনিও লিখতে পারেন। হতে পারেন আপনার জেলা কিংবা উপজেলার প্রতিনিধি।

সিভি পাঠান


news@digitalbangla24.com

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে