জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় রাখুন

প্রকাশিত: ২৫-১১-২০১৮, সময়: ০৫:০৩ |
Share This

স্বল্পমেয়াদে সরকারের রাজস্ব বিবেচনা না করে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে সরবরাহের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান দুর্বলতা কাটিয়ে মানসম্মত গ্যাস সরবরাহের দাবি তাদের। এ লক্ষ্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান অব্যবস্থাপনাও কাটিয়ে উঠার পরামর্শ তাদের। গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন। ‘এলএনজি’র দর : শিল্প ও বাণিজ্যে এর প্রভাব’ শীর্ষক ওই আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবুল কাশেম খান।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, ইতিমধ্যে গ্যাসের দর কয়েক দফা বেড়েছে। ফলে উদ্যোক্তারা চাপের মধ্যে আছেন। এ পরিস্থিতিতে এলএনজি’র দর যদি সঠিকভাবে নির্ধারিত না হয়, তাহলে বিনিয়োগে সক্ষমতার পাশাপাশি শিল্পোত্পাদন ও বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে। বর্তমানে এমনিতেই ব্যবসায়ের ব্যয় বেশি। এ পরিস্থিতিতে যদি ফের সরাসরি ব্যয় বাড়ে তাহলে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জাতীয়ভাবে অর্থনৈতিক অগ্রগতি চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে কূপ অনুসন্ধান কার্যক্রম আরো বাড়ানো এবং একই সাথে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানো আবশ্যক বলে মত দেন তিনি।

গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গ্যাস চুরি ও গণশুনানি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভুলতা, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে চোরাই লাইন আছে। তিতাস জানে। এলএনজি এসেও চোরাই লাইনে গেলে উদ্যোক্তাদের উপর চাপ বাড়বে। বিইআরসি (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) গণশুনানিতে আমাদের কথা শুনলেও কিছুই মানে না।

এ সময় আবুল কালাম আজাদ গ্যাস চুরির কথা স্বীকার করে বলেন, গ্যাস চুরি হচ্ছে। এই চুরি ঠেকাতে হবে। এ সময় তিনি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরে বলেন, এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে দক্ষ (এফিশিয়েন্ট) জ্বালানি দর ঠিক করা প্রয়োজন। অবশ্য জ্বালানির দর গত কয়েক বছর বাড়লেও একই সময়ে আন্তর্জাতিক দরও বিবেচনায় নেওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে গত কয়েক বছরে আর্থসামাজিক অগ্রগতির চিত্রও তুলে ধরেন তিনি।

মূল প্রবন্ধে সাবেক বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ ফজলুল কবীর খান গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। বিইআরসি’র সদস্য রহমান মুরশিদ এলএনজি’র নির্ধারত মূল্য আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলবে তা খতিয়ে দেখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় শিল্পোদ্যোক্তা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।

প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে প্রতিদিন ৩ হাজার ৪শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয় ২ হাজার ৭শ’ মিলিয়ন ঘনফুট। সংকট মোকাবিলায় সরকার বিদেশ থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির উদ্যোগ নেয়। তবে এর দর কত হবে তা নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই জোর আলোচনা চলছিল। বিদ্যমান গ্যাসের দরের চাইতে এলএনজি’র দর চারগুণ বেশি হবে বলে বলা হয়। যদিও সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি আমদানির উপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। তা সত্ত্বেও এলএনজি’র দাম দ্বিগুণ হবে।

Comments

comments

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

লেখা পাঠান

আপনিও লিখতে পারেন। হতে পারেন আপনার জেলা কিংবা উপজেলার প্রতিনিধি।

সিভি পাঠান


news@digitalbangla24.com

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে