জামায়াত ইস্যুতে বড় প্রশ্নের মুখে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

প্রকাশিত: ১৬-১২-২০১৮, সময়: ০৫:২৫ |
Share This

প্রাকপ্রক্রিয়া শেষ করে যতই ভোটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সময়, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা তত বেশি প্রশ্নের মুখে পড়ছেন। এই প্রশ্নের মুখে পড়ার কারণ, স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীক ভাগাভাগি করার বিষয়টি। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনে নিষিদ্ধ, উচ্চ আদালতের কাছে যুদ্ধাপরাধীদের দল বলে আখ্যায়িত জামায়াতে ইসলামী দলগতভাবে না হলেও অন্য নিবন্ধিত দলের প্রতীক নিয়ে কিভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে নানা প্রশ্ন। এ অবস্থায় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বিষয়টি নানাভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ড. কামালসহ অন্য নেতারা কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিলেই প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমের কর্মীদের প্রশ্নের মুখে পড়ছেন।

অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ে সুধীজনরা ঘুরেফিরে সভা-সমাবেশে একই প্রশ্ন তুলছেন। বিশেষ করে যে ২২টি বা ২৫টি নির্বাচনী আসনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে জামায়াতের প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেই আসনগুলোতে গণফোরামের নেতাকর্মীরাও সাধারণ মানুষের ভর্ৎসনার মুখে পড়ছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাজধানীতে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন নিজেই এমন প্রশ্নের মুখে ক্ষেপে উঠে হুমকি দেন গণমাধ্যমকর্মীদের। তিনি প্রশ্নকারী সংবাদকর্মীকে দেখে নেওয়ার ও চিনে রাখার হুমকি দেন। একপর্যায়ে তিনি ‘খামোশ’ উচ্চারণ করেন। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন ড. কামাল। যে এলাকায় এই ঘটনা ঘটে, সেই এলাকায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত জামায়াত নেতা ডা. সফিকুর রহমান।

গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর কাছে ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২২ জন জামায়াত নেতার নির্বাচন করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। অন্য কিছু জানার থাকলে সেসব কথা বলতে পারেন। আমরা এখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আছি। এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি প্রশ্ন হচ্ছে। আমরা এ নিয়ে শিগগিরই বসে আলোচনা করব।’

অবশ্য তিনি এ কথা জানান, যেসব এলাকায় জামায়াত ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছে, এর মধ্যে কোথাও কোথাও গণফোরামের আলাদা প্রার্থী রয়েছেন।

যেখানে গণফোরামের প্রার্থী নেই সেখানে আপনারা কেন্দ্র থেকে কি ধানের শীষে জামায়াতের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এখনো আমরা কোনো নির্দেশনা দেইনি। আর আমাকে এই প্রশ্ন না করাই ভালো।’

গণফোরামের পাশাপাশি বিএনপির অনেক মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থীও জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ার বিষয়টি মানতে পারছেন না।

মিরপুর এলাকার একজন মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় বিএনপির প্রবীণ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে জামায়াত বিএনপির সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচন করেছে তাদের প্রতীক নিয়ে। দলের স্বার্থে বিষয়টি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এবার জিয়াউর রহমানের ধানের শীষ প্রতীক জামায়াতের হাতে তুলে দেওয়ায় বড় ধরনের সর্বনাশ হয়েছে। আমার জীবন থাকতে তো আমি জামাতিকে ভোট দেব না। দল ক্ষমতায় আসুক বা না আসুক।’

Comments

comments

Leave a comment

ফেসবুকে আমরা

লেখা পাঠান

আপনিও লিখতে পারেন। হতে পারেন আপনার জেলা কিংবা উপজেলার প্রতিনিধি।

সিভি পাঠান


news@digitalbangla24.com

সর্বশেষ সংবাদ

উপরে